
বঙ্গোপসাগরের জেলেদের জালে ধরা পড়া বিরল আকারের ‘দাতিনা ভোল’ মাছটি শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। মাছটির ওজন ছিল সাড়ে ২২ কেজি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট কেবি বাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মিরাজ হাওলদার আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি করা হয়। প্রতি মণ ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দরে মাছটির দাম নির্ধারিত হয়। সেই হিসাবে প্রতি কেজির মূল্য পড়ে ১৫ হাজার ৭৭৭ টাকা। মাছটি কিনেছেন ব্যবসায়ী হারুন মীর।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে মাছটি ধরা পড়ে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের ইলিয়াছ হোসেনের মাছ ধরার ট্রলারে। ইলিশ ধরার ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলিটির মালিক ও মাঝি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘সাগরের আবহাওয়া খারাপ থাকায় ইলিশ জালে ধরা পড়ছে না। তাই বাড়ি ফেরার শেষ মুহূর্তে সাগরে জাল ফেলা হয়। রাতে জাল টানার সময় দাতিনা ভোল মাছটি পাওয়ায় খুশি হয়েছি। এই মাছটির দাম অনেক।’
মাছটি কেনা ব্যবসায়ী হারুন মীর বলেন, ‘দাতিনা ভোল মাছের মণ ৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে ২২ কেজি ওজনের মাছটি ক্রয় করেছি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। এখন এই মাছটি বরফ দিয়ে বড় মোকামে নেকয়া হবে, সেখান থেকে চট্রগ্রামে পাঠানো হবে। আশা করি ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবো।’
উপকূলীয় মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ছোট ছোট জাল সাগরে নিয়ে যাওয়ার কারণে এই মাছ ছোট থাকতেই ধরা পড়ে। অনেকদিন বছর পরে সাড়ে ২২ কেজির দাতিনা ভোল ধরা পড়েছে। এটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেকদিন পর এই মাছ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।’
মৎস্য ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দাতিনা ভোলের পটকার চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বড় আকারের এই মাছের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি।
মাছটি উচ্চ দামে বিক্রি হওয়ায় স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বঙ্গোপসাগর ও উপকূলের নদীগুলোতে মাঝেমধ্যে এমন বিরল প্রজাতির বড় মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব মাছ অনেক সময় জেলেদের জন্য অপ্রত্যাশিত আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মাছের পটকা ওষুধ তৈরিতে এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের সুতা (Surgical Thread) ও প্রসাধনী তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব কারণে পটকার আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে এবং তা উচ্চ দামে বিক্রি হয়।