.jpg)
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধময় ময়লার ভাগাড়ে হঠাৎই পড়েছে বালুর আস্তরণ। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের পথে তাঁর নাকে দুর্গন্ধ না পৌঁছাতে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের খিলপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে প্রায় ২০ বছর ধরে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়লার স্তূপও বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিনের ভাগাড় দূর থেকে অনেকটা পরিচ্ছন্ন দেখালেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি স্থায়ী সমাধান নয়, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সাময়িক সৌন্দর্যবর্ধন মাত্র।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে মহাসড়কের পাশে উন্মুক্তভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা। শহরের বিভিন্ন বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্যের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও এখানে ফেলা হতো। এ ছাড়া কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্যও এই স্থানে এনে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যেত। অনেক সময় বর্জ্য সড়কের পাশ পর্যন্ত গড়িয়ে আসায় দুর্ভোগ বাড়ত কয়েকগুণ।
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ভৈরবসহ বিভিন্ন গন্তব্যে হাজারো যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে থাকা এই ভাগাড়টি পথচারী ও যাত্রীদের জন্য যেমন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তেমনি এলাকার পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও স্থায়ীভাবে বর্জ্য অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তিন থেকে চার বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে লোকবলসংকটসহ নানা কারণে প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আগের স্থানেই বর্জ্য ফেলার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে সামনে রেখে গত এক সপ্তাহ ধরে খিলপাড়া এলাকার ময়লার স্তূপের কিছু অংশ সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশের আগের সেই বিশাল ময়লার স্তূপ আর আগের মতো দৃশ্যমান নেই। কিছু বর্জ্য সরিয়ে তার ওপর বালু ফেলে পুরো এলাকা ঢেকে দেওয়া হয়েছে। দূর থেকে দেখে জায়গাটিকে অনেকটাই পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে।
আগে এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলতে হলেও বালুচাপা দেওয়ার পর দুর্গন্ধের মাত্রা অনেকটাই কমেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান না করে মূলত প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ময়লা-আবর্জনা সাময়িকভাবে আড়াল করা হচ্ছে। সফর শেষ হলে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে বালুচাপা না দিয়ে স্থায়ীভাবে ময়লা অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আনারও দাবি জানান তারা।
আগামীকাল রোববার কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও কটিয়াদীতে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন তিনি।
এরপর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। পরে বিকেলে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।