
নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পৃথক দুটি এজাহার করেছেন দুই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৫ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ও বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার রাতে লালপুর ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা ও বাগাতিপাড়া ইউএনওর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় লিখিত এজাহার দেন।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জানিয়ে দুই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
লালপুর থানায় দেওয়া এজাহার থেকে জানা যায়, ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। পরে ৪০ থেকে ৫০ জন ইউএনওর কার্যালয়ে ঢুকে বিক্ষোভ করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নিয়োগের ফলাফল বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এ ছাড়া কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাব লাথি মেরে এলোমেলো করা হয়। ইউএনওর কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।
লালপুরের এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনওকে ঘিরে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ইউএনওকে কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে ভেতরে থাকা ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীরা ইউএনওর গায়ে ও কক্ষে ডিম ছুড়ে মারেন।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল রাতে একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। লালপুরের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ আগস্ট সকালে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা কয়েকটি ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে আঘাত করে।
বাগাতিপাড়ার এজাহার অনুযায়ী, উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলার অভিযোগও রয়েছে।
বাগাতিপাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বাগাতিপাড়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’