
তৃণমূলের একাংশের সমালোচনা ও বিষোদগারের জবাবে পদত্যাগের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিজ দলের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের বিচার নিশ্চিত করতে দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশ আয়োজিত ‘কর্মী মূল্যায়ন সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বাবুল।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, আজকের এই মঞ্চে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত আছেন। তারা যদি তৃণমূলের নেতা না হন, তবে কি ওই গুটিকয়েক লোকই তৃণমূল? যারা নিজেদের তৃণমূল দাবি করে আমাকে অযোগ্য আখ্যা দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।
তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই—আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন আমি অযোগ্য এবং আমাকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেন, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে আমি পদত্যাগ করব।’
নিজের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারের বিচার দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার ওপর চলা এই দীর্ঘদিনের নোংরা রাজনৈতিক চক্রান্তের ন্যায়বিচার করেন।’
ষড়যন্ত্রের নেপথ্য তুলে ধরে এমপি বাবুল বলেন, নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার সময়ও এই চক্র নানা ধরনের চক্রান্ত ও বিষোদগার করেছিল। তবে দলীয় চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য অনুধাবন করে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচন শেষ হলেও তারা থেমে নেই, নতুন করে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘এরা শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি করছে না, পুরো শহীদ জিয়ার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তারা মনে-প্রাণে চায় না এই আসনটি জাতীয়তাবাদী দলের দখলে থাকুক।’
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবসময় সজাগ, সতর্ক ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। কোনো অপশক্তি বা চক্রান্তকারী শহীদ জিয়ার পরিবারের আদর্শ, আমাদের অস্তিত্ব এবং আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না।’
এর আগে সভার শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কর্মী মূল্যায়ন সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর থেকেই মূলত স্থানীয় বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সেই চরম অসহযোগিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল উপেক্ষা করেই রোকন উদ্দিন বাবুল বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তাঁরা বলেন, ক্ষমতার অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজিত চক্রটি সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার নোংরা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ এসব চক্রান্তকারীকে দল থেকে বয়কট করার দাবি জানান এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।