
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আয়োজনে জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোজাফফর উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবির, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, বেসরকারি সংস্থা ‘সাস’-এর নির্বাহী পরিচালক ইমান আলী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম টুকু এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা মানুষের মৌলিক সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি একটি উন্নত, দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন নয়, বরং পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে মানুষকে জীবনমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, বিশেষ করে ঝরে পড়া শিশু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সাক্ষরতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
সাক্ষরতার বিস্তার ঘটলে মানুষের সচেতনতা বাড়ে, সামাজিক বৈষম্য কমে এবং ব্যক্তি ও পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই সাক্ষরতা কার্যক্রমকে শুধু শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে বলে বক্তারা মতপ্রকাশ করেন।