
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর ঘটনা গোপন করতে নিজের বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ সেখানে পুঁতে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শিশুটির সহপাঠী ও খেলার সাথীর বাবা জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার রাতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।
নিহত শিশুটি মাদারগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গেই একই স্কুলে যাতায়াত করত সে। সমবয়সী ওই সহপাঠীর সঙ্গে খেলতে প্রায়ই তাদের বাড়িতে যেত শিশুটি।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে যাওয়ায় ওই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন জামিলুল। এ সুযোগে মরিয়ম তাদের ঘরে গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের পর ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন জামিলুল। পরে ঘটনা যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে রাখেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় মরিয়ম। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মা মোছাম্মাদ ববিতা বেগম স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি সেদিন বিদ্যালয়ে যায়নি।
মেয়েকে স্কুলে না পাওয়ার বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান শুরু করেন। আশপাশের পুকুর ও নালাগুলোতেও খোঁজ চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বিভিন্ন পুকুর ও নালায় তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চলার মধ্যেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। মাদারগঞ্জ উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বসতঘরের মাটি খোঁড়া হয়।
সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ মরিয়মের মরদেহ।
ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ববিতা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মরিয়মকে হত্যার ঘটনায় পরদিন রোববার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার পর জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং তার মরদেহ বসতঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার ঘটনায় মরিয়মের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মামা বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেব বলেন? আল্লাহ গো, এর বিচার কি হইব? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দেবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দেবেন না। কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি, খালি রায় হইছে—কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয় নাই।’