
দেশখ্যাত ব্র্যান্ড ‘সুপার বোর্ড’-এর নকল ও অননুমোদিত স্টিকার ব্যবহার করে নিম্নমানের মেলামাইন বোর্ড বিক্রয় ও ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের এক ডিলারকে আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) দেবীগঞ্জ উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ বিন জিয়া পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত (মামলা নম্বর: ৯৯/২০২৬) অভিযুক্ত মোঃ আনোয়ার হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর ৪২ ধারায় আর্থিক জরিমানা প্রদান করেন।
অভিযুক্ত মোঃ আনোয়ার হোসেন (পিতা: মৃত বুনিআদ্দীন, সাং: কলেজপাড়া, দেবীগঞ্জ) দেবীগঞ্জ বাজারস্থ ‘মেসার্স মারুফ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মারুফ কাঁচঘর’-এর প্রোপাইটর। তিনি সুপার বোর্ডের তালিকাভুক্ত ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগে অন্য কোম্পানির নিম্নমানের বোর্ডের গায়ে ‘সুপার বোর্ড’-এর অননুমোদিত নকল স্টিকার লাগিয়ে আসল পণ্য হিসেবে বেশি দামে বিক্রি করে আসছিলেন।
ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডোমারের জনৈক ক্রেতা রুবেল ইসলাম অভিযুক্তের দোকান থেকে ১৯ পিস মেলামাইন বোর্ড ক্রয় করেন। বোর্ডের মান ও স্টিকার দেখে সন্দেহ হলে তিনি সরাসরি সুপার বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেইলে অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে সুপার বোর্ডের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, বোর্ডগুলোতে ব্যবহৃত স্টিকারটি কোম্পানির নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক স্টিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বোর্ডগুলো নকল।
এই প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়ে ‘সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিঃ’-এর সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাজু দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পান এবং আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা ও আইনগত শাস্তি প্রদান করেন।
সুপার বোর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি জানান, "সুপার বোর্ড সবসময় গ্রাহকদের শতভাগ গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জালিয়াতির মাধ্যমে নকল স্টিকার ব্যবহার করে গ্রাহক ঠকাচ্ছে এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।"
ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি রোধে সাধারণ ক্রেতা ও সর্বসাধারণকে পণ্য কেনার সময় ‘সুপার বোর্ড’-এর আসল ট্রেডমার্ক স্টিকার, লোগো ও অনুমোদিত ডিলারশিপ যাচাই করে কেনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের ভেজাল বা নকল স্টিকারযুক্ত পণ্য চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও জানানো হয় যে, ভবিষ্যতে যদি কেউ এমন অসাধু পথ অবলম্বন করে, নকল স্টিকার ব্যবহার করে বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে আইনানুযায়ী আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।