
মাত্র দুই দিন আগে উৎপাদনে ফেরার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায়। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোববার সকাল থেকে ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে কারখানায় আবার গ্যাস সরবরাহ করা হতে পারে।
এর আগে বয়লারের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় ১৫ দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল কারখানাটিতে। ত্রুটি মেরামতের পর গত ২৩ অক্টোবর পুনরায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছিল। এর দুই দিনের মাথায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দিতে যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল কারখানাটির। তবে পরবর্তী সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টনে।
গত বছরের জুনে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করলে ২১ জুন যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ১৮ ডিসেম্বর থেকে আবার উৎপাদন শুরু হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও কারখানাটিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকারের নেতৃত্বে একটি দল কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শনে আসে। পরিদর্শনের সময় এনজি বুস্টারের একটি বাটনে চাপ দেওয়ার পর অ্যামোনিয়া প্লান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এতে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
পরে কয়েক দিনের চেষ্টায় ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হলেও কারখানাটিতে বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল) উৎপাদন বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থায়। জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলার কৃষকদের জন্য কারখানাটির উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে স্থানীয় বাজারে ইউরিয়ার সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘাটতি পূরণে বাড়তে পারে আমদানিনির্ভরতা। এতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।