
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর সন্তান জন্মের পর নবজাতকটিকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার ভোরে উপজেলার হিঙ্গুলা গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই পরিবারের অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গুলজার আলম। তিনি জানান, শিশুটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতকটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি গোপন রাখতে স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিন লাখ টাকা লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আত্মগোপনে তরুণী, এলাকায় চাঞ্চল্য
ঘটনার পর সামাজিক লোকলজ্জা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ওই তরুণী আত্মগোপনে চলে যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর নবজাতককে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ।
সোমবার ভোরে হিঙ্গুলা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে নবজাতকটি ঠিক কার কাছে ছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি।
চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, নবজাতককে হস্তান্তরের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং ধর্ষণের মূল অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার বিকেলের দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।