
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিরাশি টিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি বর্তমানে শিক্ষক শূন্যতায় ধুঁকছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে মঞ্জুরীকৃত শিক্ষকের পদ সংখ্যা ৬টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। মঞ্জুরীকৃত ৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন শিক্ষক। অর্থাৎ ৪টি পদই শূন্য।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯২ জন। মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে ৫টি শ্রেণির ১৯২ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রেণি কার্যক্রম ঠিকমতো হচ্ছে না, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মান। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ১৯২ জন শিক্ষার্থীর।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, একজন শিক্ষককে একসাথে দুই-তিনটি শ্রেণি সামলাতে হচ্ছে। অনেক সময় একটি শ্রেণিতে পাঠদান চললে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অলস সময় পার করছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে এবং ঝরে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও শিক্ষক সংকট নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে।
এ বিষয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।