
মাদারীপুরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাইজুল ইসলাম নামের এক জামায়াত নেতাকে দলের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদারের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শিবচর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. সরোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে তাঁদের কাছে আসেন। নিলখী ইউনিয়ন উপজেলা শহর থেকে বেশ দূরে হওয়ায় সেখানে তাইজুল ইসলামকে দলের দাওয়াত ও প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা তাঁকে ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হিসেবে মনে করতেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর তাইজুলকে দলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে শিবচর উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই দিন সন্ধ্যার পর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, তাইজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নারী-পুরুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে তিনি নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াতেন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মাদরাসাশিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, কবিরাজি চিকিৎসার কথা বলে নারীদের বাড়িতে এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতেন তাইজুল। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিলখী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মো. মিন্টু মাতুব্বর বলেন, তাইজুলের পূর্বপুরুষেরা কুমিল্লার বাসিন্দা হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাইজুল চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। চিকিৎসার নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তাইজুল ইসলাম দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর স্ত্রী।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তাইজুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি। ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।