
বাঁশপাতার চা তৈরির উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে দেশসেরা হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মাহিদ ও আজিজ। ‘ইকো লিডার্স বুট ক্যাম্প’-এর অষ্টম কোহর্টে অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তাঁরা। এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের উদ্যোগের জন্য এক লাখ টাকা অর্থায়ন দেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আবাসিক বুট ক্যাম্পের সমাপনী পর্বে এ সাফল্য অর্জন করেন তাঁরা। দ্য আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত এই বুট ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে অংশ নেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করার ধারণাটি তাঁদের মাথায় আসে পরিবেশবান্ধব ও সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য তৈরির চিন্তা থেকে। বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক উপাদাননির্ভর পণ্যের সম্ভাবনা বিবেচনা করে তাঁরা বাঁশপাতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। পরে মাহিদ ও আজিজ এই ধারণা নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিন দিনের আবাসিক বুট ক্যাম্পে অংশ নেন তাঁরা। সেখানে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
উদ্যোক্তাদের মতে, বাঁশপাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, সিলিকা ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান রয়েছে। এসব উপাদানের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বাঁশপাতার চা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁদের লক্ষ্য, প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই ধারণাকে পরিবেশবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় পণ্যে রূপ দেওয়া।
বুট ক্যাম্পে বিচারক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিলিভারের প্রধান, গ্রিন ভয়েসের প্রধান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের একজন প্রতিনিধি এবং দ্য আর্থ সোসাইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
মাহিদ ও আজিজের এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে। এক লাখ টাকার অর্থায়ন কাজে লাগিয়ে তাঁরা তাঁদের উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে চান।
তবে বাঁশপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পরীক্ষাগারভিত্তিক যাচাই প্রয়োজন।