
জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে ইমামতির চাকরি নিতেন মুফতি মিজানুর রহমান (৪৭)। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এভাবে অন্তত ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগীদের করা একটি মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে মেলান্দহ থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মিজানুর রহমান জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রলোভন ও অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর রাতে স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মগোপনে চলে যান মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর গাজীপুরের আসরা মসজিদবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম ইসমাঈল মজুমদার এবং মায়ের নাম হাসিনা মাহমুদা নার্গিস। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ৩১২ নম্বর বাড়ি উল্লেখ রয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় মেলান্দহ থানা-পুলিশের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। এতে অংশ নেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ত্রিদীপ কুমার বীর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির।
এসআই হুমায়ুন কবির বলেন, মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে একেকটি মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। পরে কুমিল্লায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের কৌশল নেওয়া হয়। এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথমে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আগে মেলান্দহ থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ গ্রামের আবদুস সালাম মাস্টারের ছেলে ইসমাইল হোসেন রাজা (৫০) বাদী হয়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। দেশের অন্য স্থানেও একই কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।