.webp)
জামালপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের ৩০৯টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারের সদস্যকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের শাস্তি ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার ১২ নম্বর তিতপল্লা ইউনিয়নের চরশী খলিফাপাড়া এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মৃত আতাউর রহমান আতাবালীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নওগাঁর বদলগাছী থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চরশী খলিফাপাড়ার ৩০৮টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারের সদস্যকে বিবাদী করে জামালপুরের জজ আদালতে একটি বাঁটোয়ারা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মাওলানা ওবায়দুর রহমানের জমি দখলের চেষ্টা, ফসল নষ্ট করার হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে মমতা বেগম বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ২০৮টি পরিবারের বিরুদ্ধে আনোয়ার দারোগা মিথ্যা মামলা করেছেন। আমি একজন নারী। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও কেন আমাকে মামলার আসামি করা হলো? আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা শহীদ অভিযোগ করেন, এলাকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ছোট-বড় সবাইকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পুরো এলাকার মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নিজের নামে মামলা না হলেও প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মামলায় জড়ানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শহীদ বলেন, ‘আমাদের এলাকার ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাইকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। সবাইকে হয়রানির মধ্যে রাখা হচ্ছে। আমার নামে মামলা না দিলেও প্রতিবাদ করলে আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা আনোয়ার দারোগার বিচার চাই।’
তিতপল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হানি শেখ বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা হয়েও আনোয়ার হোসেন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ৩০৮টি পরিবারের মধ্যে ২০৮টি পরিবারকে মামলায় জড়িয়েছেন। তাঁকেও গালিগালাজ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এদিকে গ্রামবাসীর অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এসআই আনোয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, তাঁকে অভিযুক্ত করে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে লোকজনকে নিয়ে আসা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন করা হয়েছে, সেখানে মূলত লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে।’
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ওবায়দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাঁর জমি দখলে রেখে ভোগদখল করছেন। নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই আদালতে বাঁটোয়ারা মামলা করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া এলাকার আরও কয়েকজন তাঁদের সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।