
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। ২০২৬ সালে এ বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সঙ্গে ৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন।
শনিবার বেলা ১১টায় বোর্ডের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ফলাফলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আট জেলার ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৮৩ জন এবং ছাত্রী ১ হাজার ৫৭০ জন।
এবার বোর্ডের অধীনে মাত্র ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে এ হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছেলেদের পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ হলেও মেয়েদের ক্ষেত্রে তা ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বোর্ডের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২০১৭ সালে তা কমে ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬০ দশমিক ২১ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে হয় ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২০ সালে পরীক্ষা না হওয়ায় শতভাগ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়।
২০২১ সালে তিনটি ঐচ্ছিক বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ায় পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২০২২ সালে সব বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ে পাসের হার দাঁড়ায় ৭৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ এবং ২০২৫ সালে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। চলতি বছর তা আরও কমে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমেছে।