
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মোহাম্মদ হাশেম (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়শা আকতারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বরুমতি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় হাশেমকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাশেম সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, হাশেমের বাবা বানু মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে চন্দনাইশ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। ওই মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা আকতারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বরুমতি সেতুর কাছের সড়কের পাশে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাশেম। তাঁর ডান পা দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল। এ সময় সড়ক দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের দিকে হাত নেড়ে বাঁচানোর আকুতি জানান তিনি। পরে কয়েকজন পথচারী তাঁকে সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হাশেম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আয়শা আকতারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
নিহত হাশেমের বড় ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে একই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার বাসিন্দা আয়শা আকতারের সঙ্গে হাশেমের বিয়ে হয়। আয়শা সম্পর্কে তাঁদের ফুফাতো বোন। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মোস্তাকের ভাষ্য, চার ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ হওয়ার পর হাশেম বাবার কাছ থেকে পাওয়া নিজের অংশের জমি বিক্রি করে দেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। প্রায় চার বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান তিনি। সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে আসেন।
মোস্তাক অভিযোগ করেন, দেশে ফেরার পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে হাশেমের বিরোধ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এ সময় স্ত্রী ও তাঁর স্বজনেরা হাশেমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি অন্য লোকজনকে দিয়েও তাঁকে মারধর করানো হতো। গত মাসেও তাঁর স্ত্রী মারধর করে হাশেমের মাথা ফাটিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন মোস্তাক। তাঁর দাবি, গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে হাশেমকে আবারও মারধর করা হয়। পরদিন ভোর ৫টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, হাশেমকে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। ওই মারধরে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বানু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।