
কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়কেন্দ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। একের পর এক সহিংস ঘটনার মধ্যে এবার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথবাহিনীর অভিযানে তাদের গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই অভিযানেই বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয় ৫৬ জনকে।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই শুক্রবার পাহাড়ের জঙ্গলে তিনটি লাশ পড়ে থাকার তথ্য সামনে আসে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এসব লাশ পড়ে থাকতে পারে। তবে দুর্গম অবস্থানের কারণে এখনো সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সেখানে সত্যিই মরদেহ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র অপরাধীদের ধরতে যৌথবাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার বিষয়ে তারা খবর পেয়েছেন। তবে মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর তাদের কাছে এসেছে। তবে উদ্ধার না করা পর্যন্ত সেগুলো সত্যিই মরদেহ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
মানবপাচারবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার আরও বলেন, মানবপাচার কার্যক্রম যত দিন অব্যাহত থাকবে, তত দিন এ ধরনের অভিযানও চলবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে মানবপাচারকারীদের ছোড়া গুলিতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। একই অভিযানে পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকেও আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাহাড়ে নতুন করে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে সশস্ত্র অপরাধী ও মানবপাচারকারী চক্র নিজেদের আস্তানা তৈরি করেছে। এসব অপরাধী চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান চালালে হবে না। পুরো পাহাড়জুড়ে সমন্বিত ও ব্যাপক অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। অপরাধে জড়িত কেউই পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।
তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গুলিতে দায়িত্ব পালনরত একজন সেনাসদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতাও জরুরি।