
অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে চীনের ছয় নাগরিকসহ আটজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-এর সাইবার টিম দক্ষিণ বিভাগের এসআই মো. রাশেদুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পাশাপাশি প্রয়োজনে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানান। শুনানি শেষে আদালত আটজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে আসামি রোকন উদ্দিনের আইনজীবী দাবি করেন, তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারেন না। পরে আদালত রোকনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— এম এ জি, ঝাং জিয়াহাও, লিও জিঞ্জি, ওয়াং শিবো, চাং তিয়ানতিয়ান, জেমস ঝু, মো. কাউসার হোসেন ও মো. আব্দুল কারিম।
এর আগে বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবির সাইবার টিমের এসআই সুব্রত দাশ বাদী হয়ে রমনা মডেল থানা-এ মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ ও বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার প্রচারণা এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
চক্রটি বিকাশ ও নগদ-এর মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দ্রুত লাভের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে জানায় পুলিশ। পরে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তিনটি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট, একটি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট এবং একটি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম সিম মডিউল বা ভিওআইপি গেটওয়ে, প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সহজে মানুষকে প্রলুব্ধ করা যায় বলেই বিদেশি চক্রগুলো বাংলাদেশকে টার্গেট করছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দ্রুত বিদেশে পাচার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।