
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর উপপরিদর্শক (এসআই) খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি। সাক্ষ্যে খলিলুর রহমান দাবি করেন, বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহর নির্দেশে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি বরিশাল জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বরিশালে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ তাকে নিজের কার্যালয়ে ডাকেন। সেখানে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ও এসআই নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এসপি তাদের জানান, বাকেরগঞ্জ ও আগৈলঝাড়া থানার দুটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।
খলিলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসপি তখন বলেন, “ওই মামলার আসামিদের যে কোনো মূল্যে ধরতে হবে, না ধরলে চাকরি থাকবে না এবং উপরের অনেক চাপ আছে।”
তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আশুলিয়ার কুরগাঁও পুরাতনপাড়া এলাকা থেকে কবির মোল্লা এবং কেরানীগঞ্জের মধ্যেরচর এলাকা থেকে টিপু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। তবে ব্যক্তিগত মামলার কাজে তিনি মাঝপথে নেমে ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে লোকমুখে এবং টেলিভিশনের সংবাদে জানতে পারেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ার’-এ হত্যা করা হয়েছে।
খলিলুর রহমান আদালতে বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং এতে সংশ্লিষ্টরা অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনার মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সাবেক পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মাহাবুল ইসলাম এবং জসিম উদ্দিন।
এর মধ্যে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। অভিযোগ গঠনের সময় কারাগারে থাকা দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে গত ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দাখিল করা হলে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।