
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান এর বিগত বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম, দূর্ণীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কারণ দর্শানো নোটিশ।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত বিভিন্ন পরিদর্শন রিপোর্টে তার পুরাতন কর্মস্থল যমুনা ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ও ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি তে বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম, দূর্ণীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) ডিভিশন-২ এর পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জবাবের জন্য ৭ (সাত) কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
একের পর এক অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এমনকি এমডি হয়েও দুদকের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী (বর্তমানে জামিনে) হাবিবুর রহমানের কাছে পত্র সূত্র নং-বিআরপিডি (বিএমএমএ)/৬১৫/২৮/২০২৫-১৬৭১৪ এর বরাতে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত কারণ দর্শানো চিঠির মাধ্যমে যে বিষয়গুলোতে হাবিবুরের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে সেটি হুবুহু পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:
২. বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল কর্তৃক পরিচালিত পরিদর্শনকালে আপনার বিষয়ে কতিপয় অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়েছে যার সার-সংক্ষেপ নিম্নরূপ:
২.১ ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি.-তে সংঘটিত অনিয়মের তথ্য:
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল কর্তৃক প্রণীত ৩১/১২/২০২৩ খ্রি: ভিত্তিক বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি,'র পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটি'র প্রতিবেদনে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিতরণ সংক্রান্ত সংঘটিত অনিয়মে আপনার সংশ্লেষ পাওয়া গেছে। উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ৩০টি প্রতিষ্ঠানে (১৩/১১/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ২৬৪১.০২ কোটি টাকা যা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত) বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এছাড়া, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি.'র অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রতিবেদন অনুসারে ব্যাংকটির চারটি শাখায় (গুলশান শাখা, হাটখোলা শাখা, দিলকুশা শাখা ও বনানী শাখা) বিনিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।
উভয় ক্ষেত্রে ব্যাংকটির তৎকালীন ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি'র প্রধান হিসেবে আপনার যথাযথ দায়িত্ব পালনের নজির পরিলক্ষিত হয়নি। মঞ্জুরীপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ব্যাংকের অনুকূলে জমির নিবন্ধিত বন্ধকী গ্রহণ ব্যতিরেকে ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি অনাকাঙ্খিতভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, গ্রাহকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পাদনের জন্য প্রস্তাবিত ভূমি পরিদর্শন সংক্রান্ত প্রতিবেদন না থাকা, সীমাতিরিক্ত ঋণ স্থিতি বিদ্যমান থাকা, ইরিভোকেবল রেজিস্টার্ড পাওয়ার অব এটর্নি (আইজিপিএ) দলিল না থাকা, ঋণ জামানতে এমটিডিআর না থাকা, মূল নামজারি খতিয়ান/সার্টিফাইড বিভিন্ন খতিয়ান, প্রয়োজনীয় জমির দলিলাদি না থাকা, অনুমোদন বিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান ইত্যাদি গুরুতর অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটি ও পরিদর্শন দল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে (ক্রিমসন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এক্সক্লুসিভ বিজনেস হাউজ, মডার্ন ট্রেড এন্ড বিজনেস হাউস, ওরাল বিজনেজ কর্পোরেশন, সোর্স টেক ইন্টারন্যাশনাল, সুপ্রীম বিজনেস সেন্টার, কানেক্টর ট্রেডিং হাউস, গ্যালাক্সি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কনফিডেন্ট ট্রেডিং হাউস, সানশাইন ট্রেডিং হাউস, ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েটস্, এক্সেস সোর্স এন্ড ট্রেড, বেস এক্সপ্লোরেশন ট্রেড, ব্লু ওশান ট্রেডিং, মেসার্স ব্রাইট বিজনেস টেক,মেসার্স লিজিয়ন ট্রেডিং, ম্যাক্রো ট্রেডিং, জুপিটার ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নর্থ বে ট্রেড লিংক, ডিমেনশন কর্পোরেশন, টোয়াইলাইট কর্পোরেশন, মেসার্স মা-মনি কর্পোরেশন, ভিক্টর কর্পোরেশন, রিজনেবল ট্রেডার্স, ভার্সেটাইল ট্রেড, টেকওয়ে বিজনেস লাইন, মেসার্স আব্দুল আউয়াল এন্ড সন্স, মেসার্স আমিন ট্রেডার্স, রেডিয়্যান্স বিজনেস হাউস এবং আনসার এন্টারপ্রাইজ) এস. আলম সংশ্লিষ্ট অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি'র প্রধান হিসেবে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে আপনি বিনিয়োগ সুপারিশ করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ উল্লেখ রয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি'র অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও IRMD এর প্রধান হিসেবে আপনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় তথা অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ সুবিধা প্রদানের সুপারিশের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত CRM Guidelines 2016 এর 2.3 এ বর্ণিত শর্তের লঙ্ঘণ করা হয়েছে।
২.২) দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দাখিল সংক্রান্ত তথ্য:
ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি'র পরিচালনা পর্ষদের ১৪০তম সভায় প্রদত্ত নির্দেশনার আলোকে বিনিয়োগ বিতরণে অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার দায়ে আপনার বিরুদ্ধে ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম কর্তৃক বিগত ০৩/০৬/২০২৫খ্রিঃ ও ১৫/১০/২০২৫খ্রিঃ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
২.৩) যমুনা ব্যাংক পিএলসি.-তে সংঘটিত অনিয়ম:
বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কম্পোজিট টাওয়েল লিমিটেডের অনুকূলে অনিয়মের মাধ্যমে এফডিবিপি ফ্যাসিলিটি অনুমোদনের অভিযোগে আপনার নিকট ব্যাংক কর্তৃক ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রেক্ষিতে আপনার বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ বছরের ইনক্রিমেন্ট কর্তন ও ১ বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত করা হয়।
২.৪) মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি.-তে সংঘটিত অনিয়ম:
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি.'র তথ্য অনুযায়ী জনাব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে আপনাকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট প্রদান করা হয়। মামলাটি বর্তমানে মেট্রো স্পেশাল মামলা নং-২৭২/২২ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
উপরোল্লিখিত বিভিন্ন ব্যাংকিং অনিয়ম, দূর্ণীতিতে সংশ্লিষ্টতা এবং যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই সুযোগ সন্ধানী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই হাবিবুরকে নিয়ে এই প্রতিবেদক সহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টা তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য বিভিন্ন আইনের অপব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে একাধিকবার বাংলাদেশ ব্যাংকেরই BRPD Circular-৫ এর চরম লঙ্ঘন করেছে।
উল্লেখ্য, হাবিবুরের বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থিত ১১ জন পরিচালকের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে মো. হাবিবুর রহমানকে ৯০ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছয়জন পরিচালকের স্বাক্ষরিত বোর্ডের কার্যনির্বাহী বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে সশরীরে বিআরপিডিতে জমা দিয়ে গভর্নরকে মৌখিকভাবেও অবহিত করা হয়। অথচ ব্যাংকের উক্ত বোর্ড মিটিংয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিচালক হাবিবুরকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পরও গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং BRPD পরিচালক মো. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য হাবিবুর রহমানকে সাময়িক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয় যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এদিকে, এমডি পদে ৩ বছরের চুক্তির মেয়াদ এ মাসেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পুনর্নিয়োগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছে এই বিতর্কিত এমডি। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগে বোর্ডের যে কোন পদক্ষেপকে স্থগিতাদেশ দেয়।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালকদের একাংশ ও শেয়ারহোল্ডারদের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক আদেশে হাইকোর্ট ব্যাংকের বোর্ডকে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পুনর্নিয়োগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
একই দিনে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর সেকশন ২৩৩-এর অধীনে ধারা ৮৫(৩) এবং কোম্পানি আইন, ২০০৯-এর ধারা ৮ ও ২৬৩ অনুসারে ব্যাংকের পাঁচজন আবেদনকারী - পরিচালক-শেয়ারহোল্ডার একেএম আব্দুল আলীম, শেয়ারহোল্ডার কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক-শেয়ারহোল্ডার অশোক কুমার সাহিত, পরিচালক-শেয়ারহোল্ডার মোহাম্মদ জাহেদুল হক এবং পরিচালক-শেয়ারহোল্ডার অসিত কুমার সাহা; মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেন।
বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে জানতে চেয়েছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব এবং ব্যাংকের বোর্ড সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব কেন আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই জারি করা হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে না।
মহামান্য হাইকোর্ট এক আদেশের মাধ্যমে ব্যাংক এবং বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন যে, বিষয়টি এখন বিচারাধীন থাকায় এজেন্ডায় কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করতে। উল্লেখ্য, বিগত ৭ জানুয়ারীর পূর্বনির্ধারিত বোর্ডের ১৫ নম্বর এজেন্ডায় হাবিবুরের রিনিউয়ালের বিষয়টি আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল।
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বোর্ডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমানের রিনিউয়াল নিয়ে তীব্র বিভক্তির মধ্যে আদালতের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, অন্যটি পরিচালনা করছেন তারই ছেলে এবং ভাইস-চেয়ারম্যান এ কে এম আব্দুল আলীম।
আলীমের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে এবং যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে তার পূর্ববর্তী মেয়াদে ঋণ অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে হাবিবুরের বাধ্যতামূলক ছুটি পাঠানোর জন্য কয়েক দফা চিঠি লিখেও কোনো প্রতিকার পায়নি। উপরন্তু, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবেদনটি গ্রাহ্য না করে রহমানকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড বরাবর পাঠানো চিঠিতে।
এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সমর্থন করার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে যে, গত ৭ জানুয়ারির বোর্ড মিটিংয়ে ১৫ নম্বর কার্যবিধি নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই বোর্ড মিটিংয়ের সমাপ্তির পরে আলীম গ্রুপ ব্যাংকের বোর্ড কক্ষ ত্যাগের পর পুনরায় আজিজ গ্রুপ ব্যাংকে প্রবেশ করে হাবিবুরের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য তার রিনিউয়ালের বিষয়টি কার্যবিবরণীতে সংযুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকে NOC-এর জন্য প্রেরণ করে।
ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জশিটভুক্ত ও অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির এমন পুনঃনিয়োগ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরেও হাবিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
বিভিন্ন অনৈতিকতা ও ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে হাবিবুরকে প্রথম দফায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পরে হাইকোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে ৬০ দিনের মধ্যে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলে হাবিবুর রহমান স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদনও দেয়। কিন্তু অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে পুনরায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, চার্জশিটভুক্ত ও অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির এমন পুনঃনিয়োগ বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের একাংশের হাবিবুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখতে গভর্নরের নির্দেশে তাৎক্ষণিক ইউনিয়ন ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল পাঠানো হয়। কিন্তু FICSD কর্তৃক পরিচালিত পরিদর্শন-পরবর্তী রিপোর্ট বর্তমানে BRPD-তে জমা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেই রিপোর্ট ফাইলবন্দী হয়ে কোনো অজ্ঞাত কারণে BRPD-তেই থেমে আছে।
শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তের পথে বাংলাদেশ ব্যাংক:
যখন একদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা তলব করেছে হাবিবুরকে এবং অন্যদিকে হাবিবুরের সাথে যোগসাজশে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে তার পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে বোর্ডের একাংশ তখন চরম বিপাকে পড়েছে এবার এই বিতর্কিত এমডি।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্ণর সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ের এক পর্যায়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত নিয়ে এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে আহসান এইচ মনসুর জানান যে, "বোর্ডের সবার ঐক্যমত না হলে এই এমডিকে আমরা রিঅ্যাপয়েন্টমেন্ট করবো না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "পরিচালকদের হয় অ্যাবসোলুট কনসেন্সাস বা সুপার মেজরিটি থাকলেই আমরা তার কথা বিবেচনা করবো"। তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেন," ১০ জন পরিচালকের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৯ জনকে এই বিষয়ে ঐক্যমত হতে হবে।"
অভিযোগ-পরবর্তী পরিদর্শনের রিপোর্টের খুঁটিনাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের জানা থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ বারংবার খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকই তাদের নিজেদের করা BRPD Circular-৫ এর ধারা ২(ক) ৮ কে বরখেলাপ করছে এবং উক্ত সার্কুলারের অধিকাংশ ধারার ব্যত্যয় ঘটিয়ে হাবিবুর রহমানকে এমডি পদে পুনর্নিয়োগ বা আসীন রাখছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন করেও হাবিবুর রহমানের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।