
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংককে আগের মালিকদের কাছে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে নতুনভাবে পাস হওয়া আইনে এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন আইনের ১৮(ক) ধারা অনুযায়ী, একীভূত ব্যাংকের আগের শেয়ারধারী বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় উপযুক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত প্রক্রিয়ায় যে অর্থ দিয়েছে তার সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধের অঙ্গীকার।
বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ সুদসহ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ, কর ও অন্যান্য দায় মেটানোসহ একাধিক শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করতে হবে। শর্ত পূরণ ছাড়া মালিকানা ফেরত দেওয়া হবে না বলে আইনে উল্লেখ আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এই ধারা সংযোজনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি ছিল। এমনকি বিরোধী দলও সংসদে এ নিয়ে আপত্তি তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বিধানসহ বিলটি পাস হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বিধান কার্যকর হলে তুলনামূলক কম অর্থ পরিশোধ করেই মালিকানা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংক খাতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
গত বছর ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক অডিটের পর এই সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ধার দিয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং আমানত বীমা তহবিল থেকেও অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যার ৮৪ শতাংশই খেলাপি। মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এত বড় খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির পরও সীমিত অর্থে মালিকানা ফেরানোর বিধান ব্যাংক খাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।