
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ খাতে আগে থেকেই চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। লোডশেডিং ও সরবরাহ ঘাটতির মধ্যে এই অতিরিক্ত চাহিদা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
গবেষণা ও নীতিগত আলোচনায় বলা হচ্ছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জিংয়ে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে আনুমানিক ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, যার একটি অংশ অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক সংযোগের মাধ্যমে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে ইতোমধ্যে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার ওপর এই খাতের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নতুন করে ভার যোগ করছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। তাদের মতে, সরবরাহ সীমিত থাকা অবস্থায় চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যদিও এটি নির্দিষ্ট সরকারি অডিটভিত্তিক পরিসংখ্যান নয়।
সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যার মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ। এসব যানবাহনের বড় অংশ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে ওঠা গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্টে চার্জ করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি গ্যারেজ চিহ্নিত হয়েছে। এসব স্থানে দিনে গড়ে ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা চার্জ করা হয় বলে জানা যায়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সরাসরি হুকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থার চাপের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা ব্যবস্থাপনা সংকট আরও গভীর করছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, সীমিত বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যে এই খাতের ব্যবহার বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যা লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা নীতি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।