
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার তৎপরতা বাড়াচ্ছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী জুনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রথম ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স-২০২৬’।
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন বাজার খোঁজা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণকে সামনে রেখে এই আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী শুক্রবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নেভিগেটিং রিস্কস- আনলকিং রেজিলিয়েন্স’।
সম্মেলনকে সামনে রেখে রোববার (২৪ মে) উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেখানে সম্মেলনের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি এবং আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সোমবার (২৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেবেন। প্রায় ৩৫০ প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি, মূলধন সংগ্রহ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার, শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং খেলাধুলাভিত্তিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কীভাবে আরও টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। সে কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এখন থেকেই কার্যকর কৌশল নির্ধারণ জরুরি হয়ে উঠেছে।
আসন্ন এই সম্মেলনকে ঘিরে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও প্রস্তুতির বার্তা পৌঁছে দিতে চায় বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।