
গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। এ দাবির পক্ষে একটি অডিও প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের ভেতরেই এ নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে তীব্র বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
সোমবার (২৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি একটি অডিও ক্লিপও প্রকাশ করেন, যেখানে একজনকে বলতে শোনা যায়, তিনি কখনো সংঘাতে যেতে চাননি এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন।
অডিওতে শোনা যায়, ‘আমি কখনোই কনফ্রন্টেশনে যেতে চাই নাই। আমার ফোকাস ছিল কোটা সংস্কার। আমি কোটা সংস্কারেই থাকতে চাইসি। সমন্বয়কদের মধ্যে কেউ যদি আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তার দায়ভার আমি নেব না। এটা নিয়ে হাতাহাতি হওয়া শুধু বাকি ছিল।’
এই বক্তব্যের সূত্র ধরে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আন্দোলনের সময় ডিবি কার্যালয়ে অন্য সমন্বয়কেরা নির্যাতনের শিকার হলেও হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ভিন্নভাবে দেখা হতো। তিনি পোস্টে লেখেন, ‘নাহিদ-আসিফ ডিবিতে মার খেতো, আর হাসনাত-সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেতো।’
বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ বেশি কথা বললে এই অডিও প্রচার করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষের অবস্থানে ছিলেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান নেওয়া ছিল নিজেদের আগের ভূমিকা আড়াল করার কৌশল।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা শপথের আগে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা একটি বইয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে আন্দোলনের কেবল ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে, বিতর্কিত ঘটনাগুলো আড়াল করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ও প্রকাশিত অডিওর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।