
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর মধ্য দিয়ে আজ সোমবার (২৫ মে) সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মিনা প্রান্তর মুখরিত হয়ে উঠেছে লাখো হাজীর ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে। হজের প্রথম দিনে সকাল থেকেই হাজীরা তাঁবুর শহর মিনায় অবস্থান গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী হাজীদের সার্বিক পরিস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নিতে বিভিন্ন তাঁবু পরিদর্শন করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাত ১০টার পর থেকেই হজযাত্রীরা মিনার উদ্দেশে রওনা হতে শুরু করেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আজ হাজীরা মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় অবস্থানকালে হাজীদের সুবিধার্থে ধর্মমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাঁচ হাজার প্যাকেট উন্নতমানের খাবার উপহার হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সাথে তাঁবুগুলোতে হজের মাসআলা-মাসায়েলসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা ও ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন আল্লাহর মেহমানরা।.jpeg)
হজের নিয়ম অনুযায়ী, মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে হাজীরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে হজের মূল খুতবা শোনার পর তারা একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। চলতি বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ বা রুকন।
এরপর মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর হাজীরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন বুধবার (১০ জিলহজ) সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরে তারা বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম ভঙ্গ করবেন। পরবর্তীতে জিলহজ মাসের ১১ ও ১২ তারিখে হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজীরা মিনা ত্যাগ করবেন।
এদিকে চলতি বছর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অনুমতিপত্র (হজ পারমিট) ছাড়া কেউ যেন হজ পালন করতে না পারে, সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি সরকার। মিনায় আসার পথে বিভিন্ন তল্লাশি চৌকিতে কড়া নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ‘নুসুক’ কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাশাপাশি সৌদি আরবে চলমান তীব্র গরমের কারণে হজযাত্রীদের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। তীব্র রোদ এড়াতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাজীদের তাঁবুর ভেতরে অবস্থানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে বেশি বেশি পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।