
দেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ২২৩ দশমিক ৪৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণ এবং বাকি ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকে বৈদেশিক ঋণের সহজ শর্তের সুবিধা ধীরে ধীরে কমছে। একই সময়ে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন ঋণ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও ঋণ প্রস্তাব কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। উচ্চ সুদের ঋণ নিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হচ্ছে না।
তিনি জানান, যেসব প্রকল্পে অর্থনৈতিকভাবে উচ্চমাত্রার সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কেবল সেসব প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক ঋণ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল হালনাগাদের কাজ চলছে। ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও টেকসই ও সহনশীল করতে ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস (ডিএসএ) পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক মানোন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।as