
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষা, খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে একাধিক কর্মসূচির গৃহীত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে আগামী অর্থবছরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বিত প্রয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রিত রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগও চলবে।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ নারীকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দিতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করতে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের চলমান কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের এক হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ৪১৯ উপজেলায় সম্প্রসারিত ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকারি খাদ্য মজুত ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা ২৩ দশমিক ১৬ লাখ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামো খাতে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্প, কোল্ড-চেইন সুবিধা এবং লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।