
দেশের জ্বালানি সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; সময়মতো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তার মতে, ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিক এফএসআরইউ সচল রাখা এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।
সংলাপে মাহমুদ হাসান খান বলেন, “জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলাফল। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছিলাম, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত এফএসআরইউ প্রয়োজন। কিন্তু তখন কর্ণপাত করা হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আমাদের অন্তত তিন থেকে চারটি এফএসআরইউ সচল রাখতে হবে, যাতে একটি বিকল হলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় ধস না নামে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের দিকে যেতে।”
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এ খাতকে উৎসাহিত করার কথা বললেও ‘হুইলিং চার্জ’ বা সঞ্চালন মাশুল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তার ভাষায়, “৩২ পয়সার চার্জকে দুই টাকা করার প্রস্তাব দিলে কোনো বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসবে না। মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্টগুলোকে উৎসাহিত করতে হলে এই বাধা দূর করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ সেচপাম্প ডিজেলচালিত। এগুলো দ্রুত সৌরবিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ডিজেল আমদানির ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে।