
বিশ্বজুড়ে চলমান সংকট সামাল দেওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া দিকনির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে এনবিআরের আওতাধীন সর্বস্তরের অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের বোর্ড প্রশাসন-১ শাখার দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়।
চিঠির মাধ্যমে এনবিআরের অধীনস্থ দেশের সকল কাস্টমস, ভ্যাট ও কর বিভাগসহ প্রতিটি সংস্থাকে অনতিবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অপচয় রোধে ইতিপূর্বে ১২টি পয়েন্ট উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি পরিপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নির্দেশনাবলীর ওপর ভিত্তি করেই এনবিআর তাদের নিজস্ব কার্যালয়গুলোতে বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কয়েকটি নিয়ম বেঁধে দিয়েছে।
জারি করা নির্দেশনা—
দিনের বেলায় যদি কাজের জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যায়, তবে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো যাবে না। অফিস কক্ষের পর্দা বা ব্লাইন্ড সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দাপ্তরিক চলাকালীন সাধারণ সময়ের চেয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ বাতি বন্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি চালানোর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা কোনোভাবেই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে না।
নিজ কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বা দিনের কাজ শেষে অফিস ত্যাগের মুহূর্তে রুমের লাইট, ফ্যান, এসি, কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার পুরোপুরি বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ভবনের করিডোর, সিঁড়ি কিংবা শৌচাগারে অযথা বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে না। সেই সাথে যেকোনো প্রকারের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখতে হবে।
অফিশিয়াল যানবাহন ব্যবহারের হার কমিয়ে আনতে হবে এবং জ্বালানির ব্যবহারে সর্বোচ্চ কঠোরতা ও সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে।