
ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে নামে-বেনামে নির্ধারিত সীমার বেশি শেয়ার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে রিটকারীর আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ও অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার দাশ।
এর আগে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ইবিএলের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন। ব্যাংকিং খাত এবং শেয়ারবাজারের আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি এ রিট করেন।
রিটের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪ক (১) ধারা অনুসারে কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারে না। কিন্তু শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবার সরাসরি ৯.৯৯ শতাংশ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ১১.১২ শতাংশসহ মোট ২১.১১ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব শেয়ারের সংখ্যা প্রায় ৩৩ কোটি ৬৭ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত শেয়ার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়, শওকত আলী চৌধুরী তাঁর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশনের কর্মচারী নইমুল হক, তাঁর স্ত্রী সালমা শিরীন এবং নিজের শ্যালিকা অনিকা তাহজীবকে প্রক্সি শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এ ক্ষেত্রে মেসার্স আরুশা অ্যান্ড কোং এবং আনিকা শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিটের তথ্যমতে, মাত্র এক লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠান আরুশা অ্যান্ড কোং ২০০৯ সালের পর নতুন শেয়ার না কিনেও বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শেয়ারের মালিক হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নগদ লভ্যাংশ হিসেবে ২৪৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা পেয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া শওকত আলী চৌধুরী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালক থাকাকালে এসব লভ্যাংশ অনুমোদন এবং লভ্যাংশের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব ও নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রিটে আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং এসএন করপোরেশনে ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
রিটে আরও দাবি করা হয়েছে, তদন্তের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
হাইকোর্টের রুল ও নির্দেশনার ফলে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আদালতের পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।