
দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন থেকে কমিয়ে একদিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।
সমিতির মতে, ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক ক্ষতি কমাতে দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, থানা ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা যেমন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তেমনি ব্যাংকিং কার্যক্রমও এক দিনের বেশি বন্ধ রাখা উচিত নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে শুক্র ও শনিবারের নিয়মিত ছুটির সঙ্গে আরও এক দিন ব্যাংক বন্ধ রাখা হয়। কখনো কখনো নিয়মিত বন্ধের দিন ব্যাংক খোলা রেখে বৃহস্পতিবার বা রোববার ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে একটানা দীর্ঘ ছুটির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
দীর্ঘ ছুটিতে বাড়ে ঋণের সুদ ও ব্যবসায়িক চাপ
দোকান মালিক সমিতি জানায়, ব্যাংক একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সপ্তাহে দুই দিনের ছুটির পাশাপাশি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন উৎসব ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে বছরে ১২০ থেকে ১৩০ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকে। এতে ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক বাধার মুখে পড়েন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণত ব্যবসায়ীদের ব্যাংকঋণের বিপরীতে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছুটির কারণে সেই সুদের হার বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছায়।
সমিতির বক্তব্য, বর্তমানে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। এমন পরিস্থিতিতে দেশকে দীর্ঘ ছুটির মধ্যে ফেলে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
নিরাপত্তাঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা
সমিতির দাবি, দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটন, জ্বালানি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমস্যায় পড়েন। পাঁচ থেকে সাত দিনের ছুটিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বাড়িতে কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের দিনরাত উদ্বেগের মধ্যে কাটাতে হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ছুটির সময়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হন।
এ পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর স্বার্থে সপ্তাহে মাত্র এক দিন ব্যাংক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।