
বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারির পর সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ ও কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার খবর পাওয়ার পর ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ওয়েবসাইট
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ওয়েবসাইটটির নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে সেটি পুনরায় চালু করা হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যোগাযোগ ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ওয়েবসাইটটি ঠিক কখন আবার চালু করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের নাগালের বাইরে ছিল। ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত একটি বার্তা দেখা যায়।
ওই বার্তায় জানানো হয়, ওয়েবসাইটের সেবা বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অধীনে রয়েছে। এটি শিগগিরই আবার চালু করা হবে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।
পিএইচপির নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এসব নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে সরকারও সতর্কতা জারি করেছে।
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি
বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগেও বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ২০১৬ সালে হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয়।
ওই সাইবার হামলার ঘটনার পর তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।
২০২৩ সালেও বন্ধ ছিল কিছু অভ্যন্তরীণ সেবা
সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় এর আগেও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালে ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ওয়েবভিত্তিক সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ওই সেবাগুলো ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল।