
ওপার বাংলার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি সমকালীন সমাজব্যবস্থা, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনকার অধিকাংশ ‘বিপ্লব’ সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক—যেখানে বাস্তব উদ্যোগের চেয়ে ভার্চ্যুয়াল সক্রিয়তাই বেশি দৃশ্যমান।
স্বস্তিকার ভাষায়, “এখন সব বিপ্লব সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়, কারণ এতে ‘জিরো এফোর্ট’ লাগে। মানুষের এই তৎপরতার মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। ভিউ যদি বাস্তবে প্রতিফলিত হতো, তবে প্রতিটি বাংলা সিনেমা ২০ কোটি টাকার ব্যবসা করত।” তার এই মন্তব্যে অনলাইন সক্রিয়তা ও বাস্তব সামাজিক পরিবর্তনের ব্যবধান তুলে ধরা হয়েছে।
শৈশব ও ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছোটবেলায় পাড়া-প্রতিবেশীদের ‘মামা’, ‘কাকা’ বা ‘দাদা’ সম্বোধন শুনে বড় হলেও মায়ের মৃত্যুর পরদিন একটি ঘটনা তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। “মায়ের মৃত্যুর পরদিন সকালেই প্রতিবেশী এসে জানতে চান মরদেহ দাহ করা হয়েছে কি না। সেই দিনটা আমার জন্য ‘আই ওপেনার’ ছিল। সেদিন থেকেই অবাক হওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। বুঝেছি, এখনকার পৃথিবীটা আসলে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত,”—বলেন তিনি।
চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন স্বস্তিকা। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন ধারণা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে টেকনিক্যাল জ্ঞান বা কারিগরি দক্ষতা শক্তিশালী না হলে কাজের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে সেটে কঠোর হতে তার দ্বিধা নেই বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
নারী ক্রীড়াবিদদের প্রসঙ্গ তুলে স্বস্তিকা বলেন, “যে টিমটা বিশ্বকাপ জিতে ফিরল, তাদেরও আমরা ‘মহিলা ক্রিকেট টিম’ বলে সম্বোধন করেছি। কেউ একবারও ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম’ বলেনি। আসলে আমরা তো খুব স্পেশাল, তাই সবকিছুর আগে ‘মহিলা’ ট্যাগ লাগিয়ে আলাদা করা হয়।” তার এই মন্তব্যে সমাজে নারীদের প্রতি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাষাগত বিভাজনের বিষয়টি উঠে আসে।
ব্যক্তিগত সংকল্পের কথাও জানান তিনি। ২০২৬ সালের জন্য নিজের রেজোলিউশন হিসেবে ট্রোল উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বস্তিকা। “যদিও এ বছর ইতিমধ্যে দুবার উত্তর দিয়ে ফেলেছি, তবে চেষ্টা করছি নিজেকে শান্ত রাখার,”—বলেন তিনি।
স্বস্তিকার বক্তব্যে স্পষ্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবশালী যুগে তিনি বাস্তবতা, মানবিকতা এবং আত্মসংযমের গুরুত্বকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।