
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করায় সম্প্রতি তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনি, তবে পাল্টা জবাবে তিনি রসিকতার মোড়কে কড়া বার্তাই দিলেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ায় ক্লুনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে বিশ্বসংকট মোকাবিলাই হওয়া উচিত নেতৃত্বের আসল কাজ।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লুনিকে ‘ব্যর্থ অভিনেতা’ বলে বিদ্রূপ করা হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চুং আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ক্লুনির ‘খারাপ সিনেমা ও নিকৃষ্ট অভিনয়’ নাকি যুদ্ধাপরাধের সমান।
এমন বক্তব্যের জবাবে ক্লুনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নিজেকে ব্যর্থ অভিনেতা বলতে আপত্তি দেখেন না, বিশেষ করে উনিশশো সাতানব্বই সালের ‘ব্যাটম্যান অ্যান্ড রবিন’ সিনেমার কথা মনে পড়লে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সিনেমার ব্যর্থতা আর যুদ্ধাপরাধকে এক কাতারে ফেলা হাস্যকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এই বাকযুদ্ধের সূত্রপাত ট্রাম্পের এক হুমকিমূলক বক্তব্যকে ঘিরে। ইরানকে উদ্দেশ করে সামাজিক মাধ্যমে তিনি সতর্ক করেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত মানা না হলে একটি পুরো সভ্যতাই ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। ইতালিতে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে ক্লুনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একটি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু ভাষা ও আচরণের একটি সীমা থাকা জরুরি।
এই ইস্যুতে ক্লুনি একা নন। মার্ক রাফালো, জন কিউস্যাক ও স্টিফেন কিংয়ের মতো তারকারাও ট্রাম্পের আগ্রাসী ভাষার সমালোচনায় সরব হয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্য হওয়া উচিত পরিমিত ও দায়িত্বশীল, কারণ একটি ভুল শব্দই কখনো কখনো আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।