বিতর্কের ঝড় পেরিয়ে আবারও নিজের জনপ্রিয় ইউটিউব শো ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান সময় রায়না। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘স্টিল এলাইভ’ নামে এক দীর্ঘ স্ট্যান্ডআপ ভিডিওতে তিনি ‘ইন্ডিয়াস গট ল্যাটেন্ট’ ঘিরে হওয়া সমালোচনা, আইনি চাপ, মানসিক ভাঙন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, যেখানে একই সঙ্গে উঠে আসে আত্মসমালোচনা ও প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত।
ভিডিওতে সময় রায়না বলেন, একটি পর্বে অতিথির করা বিতর্কিত মন্তব্য থেকেই পুরো ঝড়ের সূচনা, যা মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘ওই পর্বে আমি নিজে কিছু বলিনি, তবু যেন ঝড়ের কেন্দ্রে আমাকেই দাঁড়াতে হয়েছে। আমরা কাস্মিরিরা তো এমনিতেই ক্রসফায়ারে পড়ি।’ একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, একটি খারাপ রসিকতাও কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা তিনি নিজের জীবনে অনুভব করেছেন।
সমালোচনার তীব্রতা প্রসঙ্গে সময় বলেন, রাজনীতি থেকে বিনোদন অঙ্গন, সব দিক থেকেই চাপ আসতে থাকে। অনেকে সুযোগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। নিজের ভাষায়, ‘একটা ভুল রসিকতার জন্য যেন পুরো বাহিনী নেমে এলো।’ তবে তিনি এটাও মানেন, জনসমক্ষে থাকা ব্যক্তির প্রতিটি কথার দায় থাকে এবং সেই দায় এড়ানো যায় না।
আইনি চাপের প্রসঙ্গে সময় জানান, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে ইউটিউব থেকে শোটির সব পর্ব সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন তিনি। ‘আমি কীভাবে একে একে সব ভিডিও মুছে ফেলেছি, সেটা শুধু আমিই জানি। ভেতরটা ভেঙে গিয়েছিল,’ বলেন তিনি। বিদেশ সফরে থাকা অবস্থায় পুলিশের ফোন পাওয়া, সহকর্মীর গ্রেপ্তার হওয়া এবং নজরদারির মধ্যে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল চরম মানসিক চাপের সময়।
এই ঘটনার প্রভাব তার ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে গভীরভাবে। সময় বলেন, ‘মঞ্চের পেছনে দাঁড়িয়ে আমি কাঁপছিলাম, বুক ধড়ফড় করছিল, মনে হচ্ছিল সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।’ আর্থিক ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করে জানান, বড় আয়োজন বাতিল হলে কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা ছিল, যা তাকে আরও আতঙ্কিত করে তোলে।
পরিবারের প্রসঙ্গে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সময়। তিনি বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় কী দেখাব, আমি কাঁদছি? তিনি এতটাই সরল।’ একই সঙ্গে নিজের কাস্মিরি পটভূমির কথা তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চান, কখন লড়তে হয় আর কখন সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সমালোচিত মন্তব্য করা সহকর্মীর প্রসঙ্গে সময় বলেন, তার প্রতি হওয়া প্রতিক্রিয়াও অনেকাংশে ‘অন্যায্য’ ছিল। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, ‘ও এমন একটা কথা বলেছিল, যেটা আমি নিজের ঘরেও সমর্থন করতে পারিনি।’ অনলাইন জগতকে তিনি ‘একটা অভিনয়ের মঞ্চ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, মানুষ যা দেখে তা পুরো সত্য নয়, বরং আংশিক চরিত্র।
সবশেষে, বিতর্ককে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে সময় জানান, এখান থেকেই তিনি নতুনভাবে শুরু করতে চান। ‘শোটা আমি আবার আনব, কারণ এটা করতে আমার ভালো লাগে। যতদিন বেঁচে আছি, মজা করে কাজ করতে চাই,’ বলেন তিনি। নতুন মৌসুমে দর্শকদের ফোন ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান, যেন আগের মতো বিতর্কের ঝড় আর না ওঠে।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ যেন এক ঝড়ো নদীর মতো, যেখানে কখনও উত্তাল স্রোত, কখনও ভাঙন, আবার শেষমেশ নতুন গতিপথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা। সময় রায়নার এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা তাই শুধু একটি শো নয়, বরং বিতর্কের ছাই থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্পও বটে।