
কিছু সিনেমা মুক্তির পরই এমন আলোচনার জন্ম দেয়, যা শুধু দর্শক নয়, পুরো বিনোদন জগতকেই নাড়িয়ে দেয়। তেমনই এক ছবিকে ঘিরে এখন চলছে বক্স অফিস সাফল্যের নতুন হিসাব-নিকাশ।
পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘মাইকেল’ বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই এটি আয়ের দিক থেকে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে জানা যায়।
চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয় করেছে প্রায় ২১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। এই সাফল্যের মাধ্যমে এটি বায়োপিক ঘরানায় আয়ের শীর্ষে উঠে এসেছে।
এর আগে এই ঘরানায় শীর্ষে ছিল ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’, যা কুইন ব্যান্ডের ফ্রেডি মার্কারির জীবনের ওপর নির্মিত হয়ে ১২৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ‘ওপেনহাইমার’ও ওপেনিং আয়ের দিক থেকে বড় রেকর্ড গড়েছিল, যার আয় ছিল ১৮০ মিলিয়ন ডলার।
নতুন এই সিনেমা সেই দুই ব্লকবাস্টারকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি সিনেমাটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের কিছু বিতর্কিত দিক এড়িয়ে গিয়ে এখানে তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন একটি গল্প উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেক বেশি ইতিবাচক। রিভিউ প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে কম রেটিং পেলেও দর্শক ভোটে পেয়েছে প্রায় সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা, যা সিনেমাটির প্রতি সাধারণ দর্শকের আগ্রহেরই ইঙ্গিত দেয়।
সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাইপো জাফর জ্যাকসন। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দর্শকরা সব শ্রেণির প্রেক্ষাগৃহেই এই সিনেমা দেখতে ভিড় করছেন এবং এটি শিল্পীর এস্টেটের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্মিত, যেখানে গানগুলোতে তার আসল কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়েছে।