
আব্বাস আরাঘচি জরুরি কূটনৈতিক সফরে রাশিয়াে পৌঁছে সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে তার লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে সুদৃঢ় করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য দুটি—প্রথমত, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ মোকাবিলায় রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আব্বাস আরাঘচি আশা প্রকাশ করেন যে রাশিয়া উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতে পারে, যার মধ্যে S-400 প্রযুক্তি অন্যতম। এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের আকাশসীমা নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ভবিষ্যতে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে আনা যেকোনো প্রস্তাব বা নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করবে।
আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শর্তের কারণে পূর্ববর্তী শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করা জরুরি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফর শুধু সামরিক সহযোগিতার সীমায় নয়, বরং পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশলও হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক শক্তির টানাপোড়েনে এই বৈঠক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।