
সময় যেন তার সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তার কাছে থমকে আছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের আবেদন অটুট রেখেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেন আরও উজ্জ্বল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নতুন ছবি প্রকাশ পেলেই ভক্তদের মন্তব্যে বারবার উঠে আসে একই কথা—‘পূর্ণিমার বয়স যেন বাড়েই না!’
আজ শনিবার (১১ জুলাই) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সেই হিসেবে আজ তিনি ৪৫ বছরে পা রাখলেন (৪৪ বছর পূর্ণ করলেন)।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন পূর্ণিমা। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমায় রিয়াজের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের মন জয় করে নেন তিনি, এরপর আর ক্যারিয়ারে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রায় ২৮ বছরের অভিনয়জীবনে প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। তবে ২০০৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ‘মনের মাঝে তুমি’ সিনেমা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। অভিনয়জীবনে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৫টি সিনেমায় তিনি জুটি বেঁধেছেন রিয়াজের সঙ্গে। এছাড়া মান্না, শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, কাজী মারুফ ও আরিফিন শুভসহ দেশের প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি।
বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার পাশাপাশি সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্রেও নিজের অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন পূর্ণিমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সুভা’ ও ‘শাস্তি’, এবং রাবেয়া খাতুনের ‘মেঘের পরে মেঘ’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, উপস্থাপক হিসেবেও সফলতা পেয়েছেন পূর্ণিমা। পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও নিয়মিত কাজ করেছেন। জাহিদ হাসান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’-তে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রের ধারা ও সময়ের পরিবর্তন ঘটলেও পূর্ণিমার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করে তিনি এখনও দর্শকদের ভালোবাসার অন্যতম প্রিয় মুখ হয়ে আছেন।