
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলায় তিনি এক নম্বর আসামি।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন—শাহ আলম অনিক, ভাষানটেক বস্তির মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না।
গ্রেপ্তার শাহ আলম অনিক ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। রোববার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছিল।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, স্টুডিওর জমির মালিক নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে এলাকার অন্য জমির মালিকদের বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর রাত পৌনে ২টার দিকে ব্রাউনফিশ স্টুডিওর ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন সালমান মুক্তাদির। সেখানে তিনি বলেন, একটু আগে এখানে হামলা হয়েছে এবং পুরো স্টুডিও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
লাইভে হামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে অভিযোগও করেন সালমান। তার ভাষ্য, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক ছিলেন এবং তার কাছে হয়তো চাঁদা দাবি করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্ভবত ৩৫ কাঠার একটা ডিসপিউটেড ল্যান্ড। যেখানে দুই পক্ষের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ আছে। এক পক্ষ নিউগিনি প্রপার্টিজের। আরেক পক্ষ হলো একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক অফিসার। তাদের মধ্যেই বিরোধটা চলছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুসারে, রিটায়ার্ড কর্মকর্তার পক্ষে বেশকিছু লোক রাতের অন্ধকারে এটা দখল করতে গিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নিউগিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা হয়েছে।