
বরিশাল বিভাগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম রোগে, একই সময়ে বিভাগের ছয় জেলায় আরও ২০৬ শিশু আক্রান্ত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বরগুনা জেলায়, যেখানে আক্রান্ত শিশু ৮০ জন এবং মৃত্যু ৩ জন। বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন, একজনের মৃত্যু হয়েছে। ভোলা ১৮ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু, ঝালকাঠি ১৫ আক্রান্ত ও ২ মৃত্যু। পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও মোট ৪৬ শিশু আক্রান্ত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানিয়েছেন, “বিভাগের সব জেলা ও উপজেলায় হাম রোগীদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।”
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩য় তলার শিশু ওয়ার্ডে ৭৮ বেডে বর্তমানে ১৯৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন, অনেক বেডে দুই থেকে তিনজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২য় তলায় ১৬ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করেছেন।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, একাধিক শিশু এক বেডে থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বরিশালের ধারালিয়া গ্রামের আহমেদ আলী জানিয়েছেন, তার ১০ মাসের সন্তান ওমর ফারুক টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন; পরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। একইভাবে, বাবুগঞ্জের আজিজুল হাওলাদার বলেন, তার ৭ মাসের সন্তান আয়েশা প্রচণ্ড জ্বর ও লাল ফুসকুড়ি নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, শিশুর জ্বরকে সাধারণ জ্বর মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা না নেওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে। এক শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ১৫–২০ জন সংক্রমিত হতে পারে। শিশুদের মধ্যে যদি জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল, গলা ব্যথা, মুখে ক্ষত বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে।