
দেশজুড়ে হামের আকস্মিক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, আর এই পরিস্থিতিকে একেবারে অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়া ঘটনা হিসেবে স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তিনি জানান, হামের এই প্রাদুর্ভাব ছিল অনেকটা বজ্রপাতের মতো—যার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর আগে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় মূলত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্প সময়ে ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার থেকে মাঠপর্যায়ে টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এত বড় পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার নজির নেই। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আগামী শুক্র ও শনিবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
টিকার সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বিদ্যমান ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে আসতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জরুরি উদ্যোগ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও বলেন, যদিও এই জনস্বাস্থ্য সংকট হঠাৎ করেই দেখা দিয়েছে, তবুও সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, আগামী রোববার থেকে মাঠপর্যায়ে পূর্ণমাত্রায় টিকাদান কার্যক্রম চালু হলে হামের বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।