
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপটিতে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দুই দেশ পারস্পরিক মতপার্থক্য মিটিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখার পথ খুঁজে পাবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে শি জিনপিং এসব মন্তব্য করেন। ট্রাম্প এই আলাপকে “চমৎকার” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এটি ছিল “দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা।”
ট্রাম্প জানান, তিনি আগামী এপ্রিলে চীনে সফরে যাচ্ছেন এবং সেই সফরের জন্য “অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন।” এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ একাধিক পশ্চিমা নেতা চীন সফর করেছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন।
ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানান, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ কোটি টন সয়াবিন কেনার বিষয়ে বিবেচনা করছে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী এটি ১ কোটি ২০ লাখ টন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং শি জিনপিং-এর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। আমরা দুই নেতা এই সম্পর্ক ধরে রাখার গুরুত্ব ভালোভাবেই বোঝি।”
ফোনালাপে তাইওয়ান ও সয়াবিনের পাশাপাশি রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল ও গ্যাস ক্রয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জিনপিং বলেন, “এই দ্বীপটি চীনের ভূখণ্ড। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা বেইজিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রিতে “সংযম” থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি চীনেরও কিছু উদ্বেগ আছে। যদি দুই পক্ষ সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক লাভের চেতনায় একই পথে কাজ করে, তবে একে অপরের উদ্বেগ মোকাবিলার পথ অবশ্যই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।”
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণের অঙ্গীকার করে আসছে এবং প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বাতিল করেনি।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়। এই চুক্তিতে উন্নত রকেট লঞ্চার, স্বচালিত হাউইটজার কামান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।