
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ–এ নির্মাণাধীন বাবরি মসজিদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, মসজিদ নির্মাণের জন্য সংগৃহীত অর্থের ৫০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশ থেকে এসেছে।
বুধবার উত্তর কলকাতায় দলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু বলেন, মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে মূল উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবির সাত দিন বাংলাদেশে ছিলেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, বাংলাদেশে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ শক্তির মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, সীমান্তের দুই পারেই মৌলবাদী শক্তি সক্রিয় হচ্ছে এবং বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তিনি খাগড়াগড় বিস্ফোরণসহ একাধিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর সঙ্গেও পরোক্ষভাবে যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেন।
পাল্টা চ্যালেঞ্জ হুমায়ুনের
অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন সদ্য গঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টি–র নেতা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, “আমি বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছি। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করেছি। এতে অপরাধ কোথায়?”
হুমায়ুন জানান, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে অর্থ আসার সুযোগ নেই কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া। “দিল্লি থেকে অনুমতি না এলে বিদেশি অর্থ আসতে পারে না। তাহলে ৫০ শতাংশ অর্থ বাংলাদেশ থেকে এসেছে—এ দাবি কীভাবে করা হয়?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার তদন্ত করুক। “আইন ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নিক। ভিত্তিহীন অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত,” মন্তব্য করেন হুমায়ুন।
নির্বাচনের আগে উত্তাপ
আগামী এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্মীয় ও সীমান্ত ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়, যা ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ায় হুমায়ুনকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন এবং এআইএমআইএম–এর সঙ্গে জোটের কথাও জানান।
বিতর্কিত এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।