
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পর বিশ্বনেতারা একে একে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন, কেউ হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ সতর্ক করেছেন—এই উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বেলজিয়াম: ‘সরকার হটানোর বিষয়ে জনগণকে মূল্য দেওয়া দুঃখজনক’
বেলজিয়াম-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট বলেন, “ইরানের সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য দেশটির সাধারণ মানুষকে মূল্য দিতে হবে না।” তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আগে ফলপ্রসূ না হওয়ায় পরিস্থিতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, আলোচনার টেবিলে সমাধান না আসায় উত্তেজনা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
নরওয়ে: ‘আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়’
নরওয়ে-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইড ইসরায়েলের হামলাকে ‘প্রতিরোধমূলক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হুমকি না থাকলে প্রতিরোধমূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—অসলো এই হামলার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পাকিস্তান: ‘অযৌক্তিক হামলার তীব্র নিন্দা’
পাকিস্তান-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের ওপর হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে উত্তেজনা বন্ধ এবং দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ।
ফ্রান্স: ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা থামাতেই হবে’
ফ্রান্স-এর প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
“বর্তমান এই সহিংস হামলা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি থামাতেই হবে,”—বলেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফ্রান্স নিজ দেশের ভূখণ্ড, নাগরিক ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রয়োজনে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সম্পদ’ মোতায়েন করতেও প্রস্তুত প্যারিস।
সূত্র: আলজাজিরা।
