
ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গত এক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের ওপর এক হাজার দুইশোর বেশি বোমা নিক্ষেপ করেছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই হামলায় প্রায় ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরান এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘নিরীহ শিশুদের হত্যার জবাব দেওয়া হবে’। খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তাদের বিমানবাহিনী এক দিনে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ১২০০টির বেশি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও ছিল। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন মারা গেছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যালয়ে হামলায় ‘বহু নিরীহ শিশু’ নিহত হয়েছে এবং এই ঘটনার ‘জবাব দেওয়া হবে’।
একই সময়, শুধু ইসরায়েল নয়, মুসলিমপ্রধান দেশ সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রভাবিত করেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির অনুযায়ী, সৌদি আরব কূটনৈতিকভাবে সমাধানের কথা বললেও গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা চালানোর জন্য চাপ দিচ্ছিল।
ইরানে হামলার বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের একই দৃষ্টিভঙ্গিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি ‘মধ্যপ্রাচ্যের অস্বাভাবিক মার্কিন মিত্র জুটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চারটি সূত্রের বরাতে তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি-ইসরায়েলের যৌথ প্রচেষ্টা তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্য অভিযানে উৎসাহিত করেছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মাসে একাধিকবার ট্রাম্পকে ফোন করে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, যদিও তিনি প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেছিলেন। একই সময়ে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চাপ দেন।