
সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ইরানের পাঠানো বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে ফ্রান্সের বিমানবাহিনী।
বারোট বুধবার (৪ মার্চ) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা ফরাসি ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমানগুলো এই অভিযানে অংশ নেয়।
মূলত আরব আমিরাতে অবস্থানরত শত শত ফরাসি নৌ, বিমান ও স্থলবাহিনীর সদস্য এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইরানি হামলা থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রথম ফ্রান্স সরাসরি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা স্বীকার করল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারোট মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা এবং সেখানে থাকা ফরাসি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গত কয়েক দিন ধরেই রাফাল জেটের টহল বাড়ানো হয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে ড্রোন হামলার হুমকি তৈরি হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে ফরাসি যুদ্ধবিমানগুলো সেগুলোকে আকাশেই ‘নিউট্রালাইজ’ বা অকার্যকর করে দেয়।
ফ্রান্সের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে, তারা তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের এবং নিজস্ব সামরিক সম্পদের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের আপস করবে না। আল ধাফরা ঘাঁটিটি ফ্রান্সের জন্য একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এর আগে মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের প্রধান বিমানবাহী রণতরি ‘শার্ল দ্য গোল’ ভূমধ্যসাগরে পাঠাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের এই বার্তার পর ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি ফ্রান্সের সক্রিয় সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখা এবং বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে তারা এই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর ফ্রান্স তার প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী আরব মিত্রদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উচ্চ ঝুঁকি থাকায় ফ্রান্সের পাশাপাশি অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে। প্যারিস মনে করছে, ইরানের এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও বিপন্ন করে তুলছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামনের দিনগুলোতেও তাদের বিমানবাহিনী এই অঞ্চলে কড়া নজরদারি বজায় রাখবে। বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলে ফ্রান্সের এই সরাসরি সামরিক অবস্থানকে যুদ্ধের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা