
শনিবার রাতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খারকিভ শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহত সবাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই শহরের বাসিন্দা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লিখেছেন, “দেশজুড়ে জ্বালানি খাত ও রেলওয়ে অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে ১০ জন নিহত হয়েছেন।” তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরকে মানুষের ওপর চালানো এই নির্মম হামলার সঠিক জবাব দিতে আহ্বান জানান।
খারকিভের মেয়র আইহর তেরেখভ জানিয়েছেন, শহরে নিহতের সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছেছে, যা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উল্লেখকৃত সংখ্যার চেয়ে একজন বেশি।
রাতের এক ভিডিও ভাষণে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি হামলাটিকে ‘নারকীয়’ আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিশেষজ্ঞদেরসহ উদ্ধারকারী দল এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে।
খারকিভে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে থাকা সাধারণ মানুষ হতাহত হন। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ এখনও চলমান। বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকর্মীরা দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন, জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
খারকিভ অঞ্চলের প্রসিকিউটররা জানান, রাশিয়ার সীমান্তের কাছে একটি গ্রামে পোস্ট অফিসের পাশে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ৪৫৩টি ড্রোন এবং ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬টি ড্রোন দেশের ২২টি স্থানে আঘাত হানে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করা হয়নি।