
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি বিশেষ বিমানের উড্ডয়ন বা ‘ওভার ফ্লাইট’ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড।
শনিবার (১৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতা নীতি (Law of Neutrality) বজায় রাখতে দেশটির ফেডারেল কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ অবলম্বন না করার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমানের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার আবেদন নাকচ করা হয়েছে। তবে মানবিক ও কৌশলগত কারণ বিবেচনায় একটি রক্ষণাবেক্ষণ ফ্লাইট এবং দুটি সাধারণ পরিবহন বিমানের উড্ডয়ন অনুমোদন দিয়েছে সুইজারল্যান্ড সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিরপেক্ষ অবস্থান সমুন্নত রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি ইরানের জ্বালানি বা তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি বা যেসব স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোতে পাল্টা আঘাত করবে তেহরান। আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদে আঘাত করা হলে এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনাই নিরাপদ থাকবে না।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত ইতিমধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির ফলে পুরো অঞ্চলে এক বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর পড়ছে।