
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা রোববার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত ১৬ দিন পূর্ণ করেছে। হামলার শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে অনুভূত হচ্ছে। ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল অনুমোদন দেবে না।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে বহু দেশের জাহাজ এখন এই রুটে চলাচল করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিমূলকভাবে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
শনিবার ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে ইরানের কারণে এর নিরাপত্তা বিপন্ন না হয়।
তবে ট্রাম্পের আহ্বানকে শক্তিশালী এসব দেশ ততটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা আগেই বলেছি যে এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি।”
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা এই সংঘাতের দ্রুত সমাধান চান। তবে ট্রাম্পের অনুরোধ মেনে তারা কি পদক্ষেপ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা রোববার জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে’কে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর এই বিষয়টি এজেন্ডায় থাকতে পারে।
ফ্রান্স সরকারও ট্রাম্পের আহ্বানে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না। দক্ষিণ কোরিয়াও এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের আহ্বানে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।