.jpeg)
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী-তে চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান-কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে পশ্চিমা জোট। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নৌচলাচল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে। ফলে এ রুট বন্ধ বা সীমিত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা অপরিহার্য। কোনো দেশের একতরফা পদক্ষেপে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাধাগ্রস্ত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
এদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় পশ্চিমা নেতারা বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রণালীতে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার না হলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদারসহ সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
সবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় হরমুজ ইস্যুতে এই নতুন প্রস্তাব সামনে এলো, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।